রাঁচি–নেতারহাট ভ্রমণ: পাহাড়, জঙ্গল, ঝরনা আর মেঘের দেশে চার দিনের রোমাঞ্চকর সফর (সেপ্টেম্বর ২০২৬)
কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির কোলে কয়েকটা দিন কাটানোর ইচ্ছা আমাদের অনেকেরই থাকে। আর সেই প্রকৃতি যদি হয় পাহাড়, ঘন জঙ্গল, নদী, অসংখ্য জলপ্রপাত আর মেঘে ঢাকা উপত্যকায় ঘেরা, তাহলে তো কথাই নেই! ঠিক এমনই এক ছোট্ট সফরের উদ্দেশ্যে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে আমাদের গন্তব্য ছিল ঝাড়খণ্ডের রাঁচি ও নেতারহাট।
এই ভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। আমাদের ইচ্ছা ছিল যতটা সম্ভব জলপ্রপাত, পাহাড়ি উপত্যকা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জায়গাগুলো ঘুরে দেখার। সেই পরিকল্পনা থেকেই রাঁচি, নেতারহাট, লোধ জলপ্রপাত, মিরচাইয়া জলপ্রপাত, পাত্রাতু ভ্যালি-সহ বেশ কয়েকটি জায়গাকে আমাদের ভ্রমণসূচিতে রাখা হয়েছিল।
তবে চার দিনের এই সফরে সব জায়গা দেখা সম্ভব হয়নি। কোথাও সময়ের অভাব, কোথাও বৃষ্টির বাধা—সব মিলিয়ে কিছু পরিকল্পনা বদলাতেও হয়েছে। তবুও এই সফর আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল।
এই ব্লগে আমাদের সম্পূর্ণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তুলে ধরব যাতায়াতের ব্যবস্থা, হোটেলের খরচ ও রিভিউ, গাড়িভাড়া, দিনভিত্তিক ভ্রমণসূচি, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের প্রবেশমূল্য এবং ভবিষ্যৎ পর্যটকদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। আশা করি, যাঁরা রাঁচি–নেতারহাট ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাজে লাগবে এই লেখা।
১. যাতায়াতের বিবরণ: হাওড়া থেকে রাঁচি
আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৪ সেপ্টেম্বর হাওড়া স্টেশন থেকে। রাঁচি যাওয়ার জন্য আমরা বেছে নিয়েছিলাম ১২০১৯ হাওড়া–রাঁচি শতাব্দী এক্সপ্রেস। ট্রেনটি নির্ধারিত সময়েই চলেছিল এবং আমরা দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটে রাঁচি পৌঁছে যাই।
ফেরার জন্য আমাদের ট্রেন ছিল ৭ সেপ্টেম্বরের ১৮৬১৬ ক্রিয়া যোগা এক্সপ্রেস। এই সফরে হাতে সময় ছিল মাত্র চার দিন। তাই যাতায়াতের সময় বাঁচানো এবং যতটা সম্ভব বেশি জায়গা ঘুরে দেখা ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
রাঁচি স্টেশনে পৌঁছনোর পর আমাদের জন্য গাড়ি অপেক্ষা করছিল। পুরো সফরের জন্য আগে থেকেই গাড়ি বুক করা ছিল, ফলে স্টেশনে নেমে গাড়ি খোঁজা বা স্থানীয় পরিবহণ নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করতে হয়নি।
২. পুরো সফরের গাড়ির ব্যবস্থা ও ভাড়া
আমাদের রাঁচি–নেতারহাট সফরের জন্য গাড়ি বুক করেছিলাম Latehar Tourism-এর মাধ্যমে।
ট্যুর অপারেটর: Latehar Tourism
যোগাযোগ নম্বর: 9470938399
ওয়েবসাইট: https://latehartourism.com
গাড়ি: মারুতি সুইফট ডিজায়ার (Maruti Swift Dzire)
মোট প্যাকেজ ভাড়া: ₹১৪,৩০০
প্যাকেজের মধ্যে রাঁচি স্টেশন থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়া, সমস্ত সাইটসিইং (এন্ট্রি ও পার্কিং ফি ছাড়া) এবং সফরের শেষে আবার রাঁচি স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আমাদের গাড়ির চালক ছিলেন রৌশনজি (Raushanji)। গাড়িটি তাঁর নিজের। তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেও গাড়ি ভাড়ার বিষয়ে কথা বলতে পারেন।
চালকের যোগাযোগ নম্বর: 7903128427
পুরো সফরে রৌশনজিই আমাদের সঙ্গে ছিলেন। গাড়ির ব্যবস্থা আগে থেকে করা থাকায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া অনেক সহজ হয়েছিল। বিশেষ করে নেতারহাটের মতো অপেক্ষাকৃত দূরের গন্তব্য এবং একাধিক জলপ্রপাত ঘোরার ক্ষেত্রে নিজস্ব গাড়ি থাকা যথেষ্ট সুবিধাজনক।
গাড়িভাড়ার হিসাব
এই পুরো ট্রিপটার জন্য আমাদের প্রথমে আনুমানিক ৮৮০ কিলোমিটারের হিসাবে এই খরচের হিসাব দেওয়া হয়েছিল।
| খরচের বিবরণ | আনুমানিক খরচ |
|---|---|
| দৈনিক বেসিক ভাড়া: ₹১,০০০ × ৪ দিন | ₹৪,০০০ |
| কিলোমিটার চার্জ: ৮৮০ × ₹১০.৬ | ₹৯,৩২৮ |
| চালকের খাবার: ₹২০০ × ৪ দিন | ₹৮০০ |
| টোল চার্জ | ₹২০০ |
| মোট হিসাব অনুযায়ী | ₹১৪,৩২৮ |
আমাদের প্যাকেজের মোট ভাড়া ছিল ₹১৪,৩০০।
ট্রিপ শেষে দেখা যায় যে ৯০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গিয়েছে, কিন্তু তার জন্য ওনারা বাড়তি কিছু নেননি আমাদের থেকে। মনে রাখবেন এই খরচ কিন্তু নন এসির জন্য, এসির জন্য ওনারা ২ টাকা প্রতি কিলোমিটারে চার্জ করেন। আমাদের চালক দাদা ভালো ছিলেন, উনি নিজের থেকেই কিছু কিছু সময়ে এসি চালিয়েছিলেন, আমাদের কিছু বলতেও হয়নি, কিন্তু তার জন্য ওনারা কোনো এক্সট্রা চার্জ নেননি।
উপরের খরচগুলো আনুমানিক হিসাব, তাই চূড়ান্ত ভাড়ার সঙ্গে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। বুকিং করার আগে কোন কোন খরচ প্যাকেজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত এবং কোনগুলি অতিরিক্ত, তা অবশ্যই নিশ্চিত করে নেবেন।
৩. নেতারহাটে হোটেল রিভিউ: Netarhat Dak Bungalow
৪ সেপ্টেম্বর রাতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল নেতারহাটের নেতারহাট ডাকবাংলোতে। নেতারহাটের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার জন্য এই জায়গাটি আদর্শ।
ঘরভাড়া ও বুকিংয়ের বিবরণ
এখানে মূলত দুই ধরনের ঘর পাওয়া যায়—Normal Room এবং Deluxe Room।
| ঘরের ধরন | অফ-সিজনে ভাড়া | পিক সিজনে ভাড়া |
|---|---|---|
| Normal Room | ₹১,৫০০ | ₹১,৮০০ |
| Deluxe Room | ₹২,৮০০ | ₹৩,৩০০ |
উপরের ভাড়া প্রতি রাতের জন্য। খাবারের খরচ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
এখানে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পিক সিজন হিসেবে ধরা হয়। এই সময়ে ঘর বুক করার আগে ভাড়া ও উপলভ্যতা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
বুকিং সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য: নেতারহাট ডাকবাংলোর ঘর বুকিং Latehar Tourism-এর মাধ্যমেই করতে হয়। ওপরে দেওয়া ফোন নম্বরে কল করে বা ওনাদের ওয়েবসাইট, দুই ভাবেই বুকিং করতে পারেন।
আমাদের ঘরের অভিজ্ঞতা
আমরা Normal Room বুক করেছিলাম এবং এখানে এক রাত, অর্থাৎ ৪ সেপ্টেম্বর ছিলাম।
ঘরের আয়তন যথেষ্ট বড় ছিল। বিছানার আকারও ভালো এবং জিনিসপত্র রাখার জন্য একটি আলমারিও ছিল। ঘরের মধ্যে এসি ছিল এবং সেটি ঠিকঠাক কাজ করছিল।
তবে ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা চোখে পড়েছে। দেওয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব ছিল এবং বেশ কিছু জায়গায় রং চটা ছিল। আলমারির ভিতরে রাখা দুটি কম্বল থেকেও বেশ খারাপ গন্ধ আসছিল। বালিশের কভারও খুব একটা পরিষ্কার ছিল না। ফলে ঘরের আয়তন ভালো হলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দিকে আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে।
বাথরুম কেমন ছিল?
বাথরুমের আয়তন যথেষ্ট বড় এবং সেটি পরিষ্কার ছিল। গিজারও কাজ করছিল, তবে জল গরম হতে বেশ কিছুটা সময় লাগছিল।
বাথরুমে মাত্র দুটি ছোট সাবান দেওয়া হয়েছিল। অন্য কোনও টয়লেট্রিজ, যেমন শ্যাম্পু বা অন্যান্য প্রসাধনসামগ্রী দেওয়া হয়নি। তাই এখানে থাকলে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
খাবারের ব্যবস্থা
ডাকবাংলোর আশেপাশে কোনও রেস্তোরাঁ নেই বললেই চলে। তবে এখানে এনাদের নিজস্ব কিচেন রয়েছে, যেখান থেকে খাবার অর্ডার করা যায়।
নিরামিষ ও আমিষ—দুই ধরনের খাবারই পাওয়া যায়। স্ন্যাকস এবং রাতের খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে খাবারের বিকল্প খুব বেশি নেই এবং খাবারের মানকে আমরা মোটামুটি চলে যায় টাইপ বলতে পারি।
আমাদের সামগ্রিক মতামত
নেতারহাট ডাকবাংলোর ঘরের আয়তন ও অবস্থান সুবিধাজনক হলেও রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এক রাত থাকার জন্য আমাদের অভিজ্ঞতা মোটামুটি ছিল, তবে খুব ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হোটেলের প্রত্যাশা নিয়ে গেলে কিছুটা হতাশ হতে পারেন।
নেতারহাটে থাকার জন্য মূলত দুটো লোকেশন সব থেকে ভালো, সানরাইজ পয়েন্ট ও নেতারহাট লেক। দুটো জায়গাতেই ঝাড়খন্ড ট্যুরিজমের হোটেল রয়েছে এবং ঐগুলিই সব থেকে বেস্ট। সানরাইজ পয়েন্টে রয়েছে প্রভাত বিহার ডিলাক্স ও নেতারহাট লেকের পাশেই রয়েছে পর্যটন বিহার। দুটিরই বুকিং করতে হয় ঝাড়খন্ড ট্যুরিজমের ওয়েবসাইট থেকে (https://jtdcl.jharkhand.gov.in/allhotel).
৪. রাঁচিতে হোটেল রিভিউ: Trevon Hotel Gujrat Centrale
রাঁচিতে আমরা দু'রাত ছিলাম ট্রেভন হোটেল গুজরাট সেন্ট্রালে। এই হোটেলে আমাদের অভিজ্ঞতা নেতারহাটের তুলনায় অনেক ভালো ছিল।
বুকিং ও ঘরভাড়া
হোটেলের নাম: Trevon Hotel Gujrat Centrale
ঘরের ধরন: Executive Twin Room
থাকার সময়: ২ রাত
ঘরভাড়া: প্রতি রাত ₹৩,৫২৮, GST-সহ
ব্রেকফাস্ট: ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল না
ওয়েবসাইট: https://www.trevonhotels.com
আমরা হোটেলের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেই ঘর বুক করেছিলাম।
ঘরের বিবরণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
Executive Twin Room-এ দুটি আলাদা সিঙ্গল বেড ছিল। ঘরটি যথেষ্ট বড়, আরামদায়ক এবং সুন্দরভাবে সাজানো। ঘরের নান্দনিকতা বা aesthetics সত্যিই ভালো লেগেছে। পুরো ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল এবং সেখানে থাকার সময় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি।
এসি ঠিকঠাক কাজ করছিল। ঘরে একটি মিনি ফ্রিজও ছিল, যদিও সেটি খুব দ্রুত ঠান্ডা করছিল না। স্মার্ট টিভি হোটেলের ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ভালোভাবেই চলছিল।
হোটেলে লিফটের সুবিধা রয়েছে, যা বয়স্ক পর্যটক বা বেশি লাগেজ নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক।
বাথরুম
বাথরুমও পরিষ্কার ছিল এবং গিজার ঠিকঠাক কাজ করছিল। প্রয়োজনীয় টয়লেট্রিজ দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে বাথরুমের ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের কোনও অভিযোগ ছিল না।
রেস্তোরাঁ ও খাবার
হোটেলের নিজস্ব রেস্তোরাঁ রয়েছে, তবে সেখানে খাবারের দাম বেশ বেশি বলে আমাদের মনে হয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, হোটেলটি সম্পূর্ণ নিরামিষ। তবে বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করা যায় (Swiggy, Zomato সব কিছুই এখানে উপলব্ধ) এবং চাইলে নিজেরাও বাইরে থেকে আমিষ খাবার কিনে এনে খেতে পারেন।
যাঁরা হোটেলের রেস্তোরাঁর উপর নির্ভর না করে বাইরে থেকে খাবার খেতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই ব্যবস্থা সুবিধাজনক।
হোটেলের অবস্থান
এই হোটেলের অন্যতম বড় সুবিধা হল এর অবস্থান। এটি রাঁচির MG Road-এর উপর অবস্থিত এবং রাঁচি লেক থেকে হেঁটে যাওয়ার মতো দূরত্বে।
শহরের মধ্যে ঘোরাঘুরি করা, বাজারে যাওয়া কিংবা স্থানীয় পরিবহণ ব্যবহার করার জন্য এই অবস্থান যথেষ্ট সুবিধাজনক।
আমাদের সামগ্রিক মতামত
রাঁচিতে থাকার জন্য Trevon Hotel Gujrat Centrale-কে আমরা সুপারিশ করব। পরিষ্কার ঘর, ভালো পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং শহরের কেন্দ্রে অবস্থান—সব মিলিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল। তবে হোটেলের রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি, এই বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।
৫. দিনভিত্তিক ভ্রমণসূচি
প্রথম দিন: ৪ সেপ্টেম্বর — হাওড়া থেকে রাঁচি, তারপর নেতারহাটের পথে
সকাল থেকে যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে আমরা হাওড়া স্টেশন থেকে ১২০১৯ হাওড়া–রাঁচি শতাব্দী এক্সপ্রেসে রওনা দিয়েছিলাম। ট্রেনটি সময়মতো চলায় দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটে রাঁচি পৌঁছে যাই।
স্টেশনে আমাদের জন্য গাড়ি অপেক্ষা করছিল। সেখান থেকেই শুরু হল রাঁচি থেকে নেতারহাটের দীর্ঘ সড়কযাত্রা। সেদিন রাতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল নেতারহাট ডাকবাংলোতে।
রাঁচি থেকে নেতারহাট যাওয়ার পথে আমরা কয়েকটি জায়গায় থেমেছিলাম।
১. দক্ষিণ কোয়েল নদী (South Koel River)
নেতারহাটের পথে দক্ষিণ কোয়েল নদীর কাছে প্রথমবারের মতো প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের নদী আর তার চারপাশের সবুজ পরিবেশ এই যাত্রাকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছিল।
![]() |
| দক্ষিণ কোয়েল নদী |
২. নেতারহাট সেভেন সিস্টার্স হিলস (Netarhat Seven Sisters Hills)
নেতারহাটের পথে এই জায়গাটিও আমাদের ভ্রমণসূচির অংশ ছিল। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটাই। স্থানীয় ভাবে এগুলিকে পান্ডব পাহাড়ও বলে।
![]() |
| নেতারহাট সেভেন সিস্টার্স হিলস |
৩. উত্তর কোয়েল নদী (North Koel River)
এরপর আমরা উত্তর কোয়েল নদীর কাছে থামি। পাহাড়, নদী আর সবুজে ঘেরা এই পথের দৃশ্য আমাদের নেতারহাট যাত্রাকে আরও সুন্দর করে তুলেছিল।
![]() |
| উত্তর কোয়েল নদী |
সব জায়গা ঘুরে আমরা সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩০ মিনিটে নেতারহাট ডাকবাংলোয় পৌঁছে যাই। দীর্ঘ যাত্রার পর হোটেলে চেক-ইন করে বিশ্রাম নেওয়াই ছিল সেদিনের শেষ কাজ।
দ্বিতীয় দিন: ৫ সেপ্টেম্বর — নেতারহাট দর্শন, লোধ জলপ্রপাত এবং রাঁচিতে ফেরা
দ্বিতীয় দিনটি ছিল আমাদের সফরের অন্যতম ব্যস্ত দিন। সকালে উঠে দ্রুত তৈরি হয়ে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নেতারহাট ডাকবাংলো থেকে চেক-আউট করি। এরপর শুরু হয় নেতারহাটের স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে দেখা।
নেতারহাটের দর্শনীয় স্থান
১. নেতারহাট লেক (Netarhat Lake)
দিনের শুরু হয় নেতারহাট লেক দিয়ে। শান্ত পরিবেশ এবং চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার জন্য এটি আমাদের দিনের প্রথম গন্তব্য ছিল।
![]() |
| নেতারহাট লেক |
২. কোয়েল ভিউ পয়েন্ট (Koel View Point)
এখানে একটি পার্ক রয়েছে, যেখানে প্রবেশ করতে টিকিট কাটতে হয়। তবে পার্কে না ঢুকেও পাশের পাইন বন থেকেও পরিষ্কার দিনে কোয়েল নদীকে দেখা যায়।
![]() |
| কোয়েল ভিউ পয়েন্ট সংলগ্ন পাইন বন |
আমরা পার্কের ভিতরে প্রবেশ করিনি। তবে প্রচুর মেঘ থাকার কারণে দৃশ্যমান্যতা খুব কম ছিল, দূরের কোয়েল নদীকে খুব ভালোভাবে দেখা যায়নি।
৩. ন্যাসপাতি বাগান (Pear Orchard)
এটি একটি সরকারি বাগান, জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। যখন আমরা গেছিলাম ততদিনে ন্যাসপাতির সিজন শেষ, তাই আমরা ফল আর দেখতে পাইনি।
![]() |
| ন্যাসপাতি বাগান |
৪. নেতারহাট পাইন ফরেস্ট (Netarhat Pine Forest)
নেতারহাটের পাইন ফরেস্ট এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। উঁচু পাইন গাছের সারি এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে ভালোই লেগেছিল।
![]() |
| নেতারহাট পাইন ফরেস্ট |
![]() |
| নেতারহাট পাইন ফরেস্ট |
৫. ম্যাগনোলিয়া সানসেট পয়েন্ট (Magnolia Sunset Point)
নেতারহাটের পরিচিত দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে ম্যাগনোলিয়া সানসেট পয়েন্ট অন্যতম। সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য এই জায়গা বিশেষভাবে পরিচিত। এই জায়গাটিতে পরিষ্কার পরিচ্ছনতার খুব অভাব লক্ষ্য করা যায়।
![]() |
| ম্যাগনোলিয়া সানসেট পয়েন্ট |
৬. নেতারহাট স্কুল (Netarhat School)
এরপর আমরা নেতারহাট স্কুল ঘুরে দেখি। এটি একটি আবাসিক বিদ্যালয়, ভিতরে প্রবেশ করা যায় না, বাইরে থেকেই দেখতে হয়। ভারতের অনেক আমলারা এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র।
![]() |
| নেতারহাট স্কুল |
৭. শ্যালেট হাউস (Chalet House)
নেতারহাট স্কুল থেকে স্বল্প দূরত্বে এটি অবস্থিত। এখানেও আমরা বাইরে থেকেই জায়গাটি দেখেছিলাম। ১৯১৯ সাল নাগাদ তৎকালীন বিহার ও উড়িষ্যার লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার এডওয়ার্ড গেট এটির নির্মাণ করেছিলেন। এই বাড়িটি ব্রিটিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গ্রাম প্রধানদের বৈঠকের জন্য, ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি লাতেহারের ডেপুটি কমিশনারের ক্যাম্প অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমরা যখন গিয়েছিলাম, তখন এখানে রিপেয়ারিংয়ের কাজ চলছিল। বাইরে থেকে ভালো ভাবে এটি দেখা যায়না। এই চত্বরেই জঙ্গলের মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের ফাঁসি দেওয়ার স্থানটি।
![]() |
| শ্যালেট হাউসের সেই ফাঁসি দেওয়ার জায়গা |
এইভাবে নেতারহাটের স্থানীয় জায়গাগুলো দেখা শেষ করে আমরা অন্য গন্তব্যগুলির দিকে রওনা দিই।
নেতারহাটের পর জলপ্রপাত অভিযান
৮. লোধ জলপ্রপাত (Lodh Waterfall)
নেতারহাটের পর আমাদের গন্তব্য ছিল লোধ জলপ্রপাত। ঝাড়খণ্ডের সর্বোচ্চ এই জলপ্রপাত বুরহা নদীর দ্বারা সৃষ্ট, এটি উত্তর কোয়েল নদীর একটি শাখানদী।
প্রবেশমূল্য ও পার্কিং: দু'জনের জন্য মোট ₹৭০
প্রকৃতির মাঝে এই জলপ্রপাত দেখার অভিজ্ঞতা আমাদের সফরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল।
![]() |
| লোধ জলপ্রপাত |
![]() |
| লোধ জলপ্রপাত |
৯. সুগ্গা বাঁধ জলপ্রপাত (Sugga Bandh Waterfall)
এরপর আমরা সুগ্গা বাঁধ জলপ্রপাতের দিকে যাই। নেতারহাট থেকে রাঁচি ফেরার পথে এই জলপ্রপাতটিও আমাদের ভ্রমণসূচিতে ছিল। এই জলপ্রপাত উত্তর কোয়েল নদীর দ্বারা সৃষ্ট।
| সুগ্গা বাঁধ জলপ্রপাত |
| সুগ্গা বাঁধ জলপ্রপাত |
১০. মারোমার জঙ্গল (Maromar Forest)
এরপর আমরা মারোমার জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যাই। জঙ্গলঘেরা পথের প্রাকৃতিক পরিবেশ এই দীর্ঘ যাত্রায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল। জঙ্গলের ভিতরে এখানে একটি ফরেস্ট রেস্ট হাউস রয়েছে, এখানে চাইলে আপনারা থাকতেই পারেন। তবে এখানে কিন্তু খাবার দাবারের জিনিসপত্র সব আপনাদের সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হবে, ওনারা রান্না করে দেবেন। মোবাইলের নেটওয়ার্ক কিন্তু এখানে পাবেননা।
১১. মিরচাইয়া জলপ্রপাত (Mirchaiya Waterfall)
দিনের শেষ জলপ্রপাত ছিল মিরচাইয়া জলপ্রপাত। এটিও উত্তর কোয়েল নদীর দ্বারা সৃষ্ট।
প্রবেশমূল্য: জনপ্রতি ₹২০
![]() |
| মিরচাইয়া জলপ্রপাত |
এই সমস্ত জায়গা ঘুরে আমরা রাঁচির উদ্দেশ্যে রওনা হই। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে হোটেলে পৌঁছই।
তৃতীয় দিন: ৬ সেপ্টেম্বর — রাঁচির মন্দির, বাঁধ ও বিখ্যাত জলপ্রপাত
এই দিন আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল রাঁচি ও তার আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে দেখা। সকাল প্রায় ৮টা ১৫ মিনিটে হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়ি।
১. জগন্নাথ মন্দির (Jagannath Temple)
দিনের শুরু হয় রাঁচির জগন্নাথ মন্দির দিয়ে। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি মন্দিরের অবস্থানও বেশ আকর্ষণীয়।
![]() |
| জগন্নাথ মন্দির |
২. ধুরওয়া বাঁধ (Dhurwa Dam)
এরপর আমরা ধুরওয়া বাঁধের দিকে যাই। বাঁধ ও জলাধারকে ঘিরে থাকা পরিবেশ কিছুটা সময় কাটানোর জন্য ভালো। ১৯৬৩ সালে নির্মিত এই জলাধার সুবর্ণরেখা নদীর ওপর অবস্থিত। এটি হাতিয়া ড্যাম (Hatia Dam) নামেও পরিচিত।
![]() |
| ধুরওয়া জলাধার |
![]() |
| ধুরওয়া বাঁধ |
৩. সূর্য মন্দির (Sun Temple)
পরবর্তী গন্তব্য ছিল সূর্য মন্দির। মন্দিরের স্থাপত্য ও আশেপাশের পরিবেশ দেখার পর আমরা পরবর্তী গন্তব্যের দিকে রওনা হই।
![]() |
| সূর্য মন্দির |
রাঁচির জলপ্রপাতগুলির সন্ধানে
৪. দশম জলপ্রপাত (Dasham Waterfall)
রাঁচির বিখ্যাত জলপ্রপাতগুলির মধ্যে দশম জলপ্রপাত অন্যতম। বর্ষাকালে জলপ্রপাতের জলধারা বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এটি কাঞ্চি নদীর দ্বারা সৃষ্ট, এই নদী সুবর্ণরেখা নদীর একটি শাখানদী।
পার্কিং চার্জ: ₹৫০
এই জলপ্রপাতটির একটি সুবিধা হল, উপর থেকেই জলপ্রপাতের দৃশ্য দেখা যায়। অন্যান্য অনেক জলপ্রপাতের মতো এখানে দৃশ্য দেখতে নীচে নামার জন্য দীর্ঘ সিঁড়ি ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। তাই সিঁড়ি ভাঙতে অসুবিধা হয় এমন পর্যটকদের কাছে এটি তুলনামূলক সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে।
![]() |
| দশম জলপ্রপাত |
৫. জোনহা জলপ্রপাত (Jonha Waterfall)
এরপর আমরা জোনহা জলপ্রপাত দেখতে যাই। এটি রাড়হু/রাডু এবং গুঙ্গা নদীর দ্বারা সৃষ্ট।
প্রবেশমূল্য ও পার্কিং: দু'জনের জন্য মোট ₹১০০
জলপ্রপাতটি দেখতে যাওয়ার আগে সিঁড়ির বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। যাঁদের হাঁটাচলায় অসুবিধা রয়েছে, তাঁদের জন্য নীচে নামা ও আবার উপরে ওঠা বেশ কষ্টকর হতে পারে।
![]() |
| জোনহা জলপ্রপাত |
৬. সীতা জলপ্রপাত (Sita Waterfall)
আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল সীতা জলপ্রপাত। এটিও রাড়হু/রাডু নদীর দ্বারা সৃষ্ট।
প্রবেশমূল্য ও পার্কিং: দু'জনের জন্য মোট ₹১০০
রাঁচির জলপ্রপাতগুলির মধ্যে সীতা জলপ্রপাত আমাদের বিশেষভাবে ভালো লেগেছিল। ব্যক্তিগতভাবে বলতে গেলে, এই সফরে দেখা জলপ্রপাতগুলির মধ্যে আমার কাছে সীতা জলপ্রপাতই ছিল সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং চারপাশের পরিবেশ মনে রাখার মতো।
![]() |
| সীতা জলপ্রপাত |
৭. রাঁচি লেক (Ranchi Lake)
দিনের শেষ গন্তব্য ছিল রাঁচি লেক। এই লেকের মধ্যিখানে রয়েছে স্বামী বিবেকানন্দের এক দারুন মূর্তি, সেই অব্দি পৌঁছানোর জন্য রয়েছে এক ব্রিজ। দুর্ভাগ্যবশত আমরা যেই সময়ে গিয়েছিলাম সেই সময়ে সূর্যের অবস্থানের জন্য আমরা ভালো ছবি তুলতে পারিনি, কিন্তু এখানে অবশ্যই আসবেন বিকেলের দিকে, খুব ভালো জায়গা। শহরের মধ্যে অবস্থিত এই লেকের চারপাশে কিছুটা সময় কাটিয়ে আমরা এই দিনের প্রোগ্রাম শেষ করি।
![]() |
| রাঁচি লেক |
এই দিনটি আমাদের কাছে বেশ ঘটনাবহুল ছিল। মন্দির, বাঁধ এবং একের পর এক জলপ্রপাত ঘুরে দেখার পর সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নিই।
চতুর্থ দিন: ৭ সেপ্টেম্বর — গেতালসুদ বাঁধ থেকে পাত্রাতু ভ্যালি, তারপর রাঁচি
সফরের শেষ দিন। সকালে প্রায় ৮টা ৪০ মিনিটে হোটেল থেকে চেক-আউট করি। সেদিনও আমাদের পরিকল্পনা ছিল বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরে সন্ধ্যায় রাঁচি স্টেশনে পৌঁছনো।
কিন্তু সেদিনের আবহাওয়া আমাদের পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সকালের গন্তব্য
১. গেতালসুদ বাঁধ (Getalsud Dam)
সকালের প্রথম গন্তব্য ছিল গেতালসুদ বাঁধ। বাঁধের চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করে আমরা পরবর্তী গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাই। ১৯৭১ সালে সুবর্ণরেখা নদীর ওপর এটি নির্মিত হয়েছিল।
![]() |
| গেতালসুদ জলাধার |
![]() |
| গেতালসুদ বাঁধ থেকে জল ছাড়া |
![]() |
| গেতালসুদ বাঁধ থেকে জল ছাড়া |
![]() |
| গেতালসুদ বাঁধের ওপর থেকে আশে পাশের দৃশ্য |
![]() |
| গেতালসুদ বাঁধের নিকটবর্তী পাইন বন |
![]() |
| সিকিদিরি ঘাটি ভিউ পয়েন্ট থেকে আশে পাশের দৃশ্য |
৩. রাজরাপ্পা মন্দির (Rajrappa Temple)
আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল রাজরাপ্পা মন্দির ও তার আশেপাশের আরও কয়েকটি মন্দির।
এখানে আমরা দর্শন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, প্রচণ্ড ভিড় এবং পুজো দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনের কারণে দর্শন করা সম্ভব হয়নি। বাইরে থেকে বিগ্রহ দেখা যায় না এবং মূল গর্ভগৃহের দরজা ও ভিতরে যাওয়ার পথও বেশ সরু। ফলে ভিড়ের সময় পরিস্থিতি আরও অসুবিধাজনক হয়ে ওঠে।
আমাদের অভিজ্ঞতায়, এখানে দর্শনের জন্য যথেষ্ট সময় হাতে রাখা উচিত। মন্দিরের অবস্থান ও প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার অভাব আমাদের চোখে পড়েছে।
রাজরাপ্পা মন্দিরে বেশ কিছুক্ষণ বৃষ্টির কারণে আটকে থাকার পর আমরা ভিজে অবস্থাতেই পাত্রাতুর উদ্দেশ্যে রওনা দিই।
![]() |
| রাজরাপ্পা মন্দির |
![]() |
| রাজরাপ্পা মন্দিরের শিব লিঙ্গ |
![]() |
| রাজরাপ্পা মন্দিরের পাশেই রয়েছে দামোদর (বামদিকে) ও ভেরা/ভৈরবী (ডানদিকে) নদীর সঙ্গম |
![]() |
| রাজরাপ্পা মন্দিরের আশে পাশেই রয়েছে অনেক সুন্দর মন্দির |
![]() |
| রাজরাপ্পা মন্দিরের পাশেই রয়েছে এই সূর্য মন্দির |
পাত্রাতুর পথে
৪. পাত্রাতু বাঁধ (Patratu Dam)
পাত্রাতু পৌঁছে প্রথমে আমরা পাত্রাতু বাঁধ ঘুরে দেখি। পাত্রাতু অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে বাঁধের দৃশ্য মিলিয়ে জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়। ১৯৬০ সাল নাগাদ এটি নলকারী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছিল।
![]() |
| পাত্রাতু বাঁধ |
৫. পালানি জলপ্রপাত (Palani Waterfall)
এরপর আমরা পালানি জলপ্রপাতের দিকে যাই।
প্রবেশমূল্য ও পার্কিং: দু'জনের জন্য মোট ₹১০০
বর্ষাকালে জলপ্রপাতের জলধারা উপভোগ করার জন্য এই জায়গাটিও আমাদের ভ্রমণসূচিতে ছিল।
| পালানি জলপ্রপাত |
৬. পাত্রাতু লেক (Patratu Lake)
পরবর্তী গন্তব্য ছিল পাত্রাতু লেক।
প্রবেশমূল্য: জনপ্রতি ₹২০
লেকের চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করার জন্য এখানে কিছুটা সময় কাটাই।
![]() |
| পাত্রাতু লেক |
![]() |
| পাত্রাতু লেক |
৭. পাত্রাতু ভ্যালি (Patratu Valley)
পাত্রাতু ভ্যালি ছিল আমাদের শেষ দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পাহাড়ি রাস্তা, উপত্যকা এবং চারপাশের সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য এই অঞ্চল পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।
![]() |
| পাত্রাতু ভ্যালি ভিউ পয়েন্ট থেকে |
![]() |
| পাত্রাতু ভ্যালি ভিউ পয়েন্ট থেকে |
![]() |
| পাত্রাতু ভ্যালি ভিউ পয়েন্ট থেকে |
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এখানেও বৃষ্টি আমাদের সঙ্গ ছাড়েনি। বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিকভাবে ঘোরাঘুরি করা এবং চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার পরিকল্পনা অনেকটাই ব্যাহত হয়।
সফরের শেষ গন্তব্য
পাত্রাতু থেকে রাঁচিতে ফিরতে ফিরতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। ফলে শেষ দিনের পরিকল্পনায় থাকা সব জায়গা দেখা সম্ভব হয়নি।
৮. কাঁকে বাঁধ ও রক গার্ডেন (Kanke Dam and Rock Garden)
সময় স্বল্পতার কারণে শেষ পর্যন্ত আমরা রাঁচিতে আমরা শুধু কাঁকে বাঁধ ও রক গার্ডেনটাই কভার করতে পেরেছিলাম। তবে রক গার্ডেন থেকে নিচের কাঁকে বাঁধের জলে অস্তমিত সূর্যের আলোকচ্ছটা বহুদিন মনে থাকবে, এখানে এক অসাধারণ সূর্যাস্তের সাক্ষী ছিলাম আমরা। ১৯৫৪ সালে নির্মিত এই জলাধার জুমার নদীর সাথে সংযুক্ত।
![]() |
| কাঁকে বাঁধের জলে অস্তমিত সূর্যের আলোকচ্ছটা |
![]() |
| কাঁকে বাঁধের জলে অস্তমিত সূর্যের আলোকচ্ছটা |
![]() |
| রক গার্ডেনের ভিতরে |
![]() |
| রক গার্ডেনের ভিতরে |
![]() |
| রক গার্ডেনের ভিতরে |
শেষ দিনটি বৃষ্টির কারণে কিছুটা হতাশাজনক হলেও, পুরো সফরের অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে অত্যন্ত স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
৬. দর্শনীয় স্থানগুলির প্রবেশমূল্য: আমাদের খরচের হিসাব
ভ্রমণের বাজেট তৈরির সুবিধার জন্য যেসব জায়গায় আমরা প্রবেশমূল্য বা পার্কিং চার্জ দিয়েছিলাম, সেগুলি একসঙ্গে সাজিয়ে দিলাম।
| দর্শনীয় স্থান | দু'জনের মোট খরচ |
|---|---|
| লোধ জলপ্রপাত — প্রবেশ ও পার্কিং | ₹৭০ |
| মিরচাইয়া জলপ্রপাত — জনপ্রতি ₹২০ | ₹৪০ |
| দশম জলপ্রপাত — পার্কিং | ₹৫০ |
| জোনহা জলপ্রপাত — প্রবেশ ও পার্কিং | ₹১০০ |
| সীতা জলপ্রপাত — প্রবেশ ও পার্কিং | ₹১০০ |
| পালানি জলপ্রপাত — প্রবেশ ও পার্কিং | ₹১০০ |
| পাত্রাতু লেক — জনপ্রতি ₹২০ | ₹৪০ |
| কাঁকে বাঁধ ও রক গার্ডেন — প্রবেশ ও পার্কিং | ₹১৬০ |
| মোট | ₹৬৬০ |
এই তালিকায় শুধুমাত্র উপরে উল্লেখ করা জায়গাগুলির খরচ রয়েছে। অন্যান্য জায়গায় কোনও খরচ হয়নি, অথবা আমরা আলাদা করে প্রবেশমূল্যের হিসাব উল্লেখ করিনি। ভ্রমণের আগে প্রবেশমূল্য ও পার্কিং চার্জের বর্তমান হার যাচাই করে নেওয়া ভালো, কারণ সময়ের সঙ্গে এগুলি পরিবর্তিত হতে পারে।
মনে রাখবেন, এই হিসাবের মধ্যে ট্রেনের টিকিট, হোটেলের ভাড়া, খাবার, ব্যক্তিগত কেনাকাটা এবং অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়।
৭. রাঁচি–নেতারহাট ভ্রমণের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ
আমাদের চার দিনের সফরে বেশ কিছু জায়গা দেখা হয়েছে, আবার কিছু জায়গা বাদও পড়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যৎ পর্যটকদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা শেয়ার করছি।
১. ট্রেনের সময় বুঝে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন
আমাদের সফরে অনেক জায়গা বাদ পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল যাতায়াতের সময়। হাতে সময় কম থাকলে এমন ট্রেন বেছে নেওয়া উচিত, যাতে গন্তব্যে পৌঁছেই দিনের বড় অংশ ঘোরার জন্য পাওয়া যায়।
যদি সম্ভব হয়, রাতের ট্রেনে রাঁচি পৌঁছনোর পরিকল্পনা করুন। ক্রিয়া যোগা এক্সপ্রেসের মতো সুবিধাজনক সময়ের ট্রেন ব্যবহার করতে পারলে সকালে পৌঁছে পুরো দিনটি কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে। ট্রেনের বর্তমান সময়সূচি ও টিকিটের উপলভ্যতা অবশ্যই আগে যাচাই করবেন।
২. হুণ্ড্রু জলপ্রপাতের সিঁড়ির কথা মাথায় রাখুন
রাঁচির অন্যতম বিখ্যাত জলপ্রপাত হল হুণ্ড্রু জলপ্রপাত (Hundru Waterfall)। কিন্তু আমরা ইচ্ছাকৃতভাবেই এই জলপ্রপাতটি বাদ দিয়েছিলাম।
কারণ, এখানে প্রায় ৭৫০টি সিঁড়ি একদিকে নামতে হয় বলে আমাদের জানা ছিল। অর্থাৎ নীচে নামা এবং আবার উপরে ওঠা—দুটিই যথেষ্ট পরিশ্রমসাধ্য।
আমরা হুণ্ড্রু বাদ দিয়েও সব পরিকল্পিত জায়গা ঘুরে দেখতে পারিনি। তাই রাঁচির জলপ্রপাতগুলি ঘুরতে গেলে সময় এবং শারীরিক সক্ষমতা—দুটির দিকেই নজর রাখা জরুরি।
৩. বর্ষাকাল জলপ্রপাত দেখার ভালো সময়, তবে সতর্ক থাকুন
বর্ষাকালে অথবা বর্ষার ঠিক পরের সময় রাঁচি ও নেতারহাট ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ হল জলপ্রপাতগুলি। বৃষ্টির জলে জলপ্রপাতগুলি পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং চারপাশের প্রকৃতিও সতেজ থাকে।
তবে এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে, দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে এবং জলপ্রপাতের কাছে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের আর্থ্রাইটিস বা হাঁটাচলায় অসুবিধা রয়েছে, যাঁরা হাঁপানির সমস্যায় ভোগেন, কিংবা বয়স্ক পর্যটক—তাঁদের নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী পরিকল্পনা করা উচিত। সবকটি জলপ্রপাতের ক্ষেত্রে প্রচুর সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।
আমাদের অভিজ্ঞতায়, দশম জলপ্রপাত তুলনামূলক সুবিধাজনক, কারণ উপর থেকেই জলপ্রপাতটি দেখা যায়। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকলে সেখানেও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
৪. নেতারহাটে আরও যেসব জায়গা দেখা বাকি রয়ে গেল
আমরা নেতারহাটের বেশ কিছু জায়গা ঘুরে দেখলেও সব গন্তব্যে যাওয়ার সময় পাইনি।
আমাদের বাদ পড়া জায়গাগুলি হল:
আপার ঘাঘরি জলপ্রপাত (Upper Ghagri Waterfall)
লোয়ার ঘাঘরি জলপ্রপাত (Lower Ghagri Waterfall)
টাঙ্গিনাথ মন্দির (Tanginath Temple)
আপনার হাতে যদি আরও সময় থাকে, তাহলে নেতারহাটের ভ্রমণসূচিতে এই জায়গাগুলিও রাখার কথা বিবেচনা করতে পারেন।
৫. রাঁচিতে আরও যেসব জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন
সময়ের অভাবে আমাদের রাঁচির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
সেগুলি হল:
টেগোর হিলস (Tagore Hills)
বিরসা মুন্ডা মিউজিয়াম (Birsa Munda Museum)
ভগবান বিরসা বায়োলজিক্যাল পার্ক (Bhagwan Birsa Biological Park)
পাহাড়ি মন্দির (Pahari Mandir)
মুরহার পাহাড় (Murahar Hills)
রাঁচির জন্য অন্তত দু'দিনের একটি পরিকল্পনা করলেও সময়ের হিসাব ভালোভাবে করা জরুরি। জলপ্রপাতের সিঁড়ি, যাতায়াতের দূরত্ব এবং আবহাওয়া অনুযায়ী প্রতিটি গন্তব্যে কতটা সময় লাগবে, তা আগে থেকে ভেবে নিন।
৬. রাঁচির আশেপাশে আরও কিছু অফবিট জলপ্রপাত
যাঁরা জনপ্রিয় পর্যটনস্থলের পাশাপাশি কিছুটা নিরিবিলি ও অফবিট জায়গা ঘুরতে চান, তাঁদের জন্য কয়েকটি বিকল্পের কথা বলা যায়।
হিরনি জলপ্রপাত (Hirni Waterfall)
পাঁচঘাঘ জলপ্রপাত (Panchghagh Waterfall)
পেরওয়াঘাঘ জলপ্রপাত (Perwaghagh Waterfall)
আপনারা চক্রধরপুরে ঘুরতে এলে সেখান থেকেও এগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। তবে রুট অনুযায়ী দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় যাচাই করে নেওয়া উচিত।
৭. রাঁচি–নেতারহাটের সঙ্গে আরও যেসব গন্তব্য যুক্ত করতে পারেন
যাঁদের হাতে চার দিনের চেয়ে বেশি সময় রয়েছে, তাঁরা চাইলে রাঁচি ও নেতারহাটের পাশাপাশি অন্য কয়েকটি গন্তব্যও বিবেচনা করতে পারেন।
বেতলা অরণ্য (Betla Forest)
পালামৌ (Palamu)
ডালটনগঞ্জ (Daltonganj)
সারান্ডা অরণ্য (Saranda Forest)
কিরিবুরু–মেঘাতাবুরু (Kiriburu–Meghataburu)
চক্রধরপুর (Chakradharpur)
সিমডেগা (Simdega)
ম্যাকক্লাস্কিগঞ্জ (McCluskieganj)
এই সমস্ত জায়গা একসঙ্গে ঘোরার পরিকল্পনা করলে ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত সময় রাখতে হবে। এগুলিকে একটি নির্দিষ্ট রুটে যুক্ত করা সম্ভব কি না, তা যাত্রার আগে গাড়ির চালক বা স্থানীয় পর্যটন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া ভালো।
৮. রাজরাপ্পা মন্দিরে যাওয়ার আগে সময় হাতে রাখুন
রাজরাপ্পা মন্দিরে আমাদের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো ছিল না। অতিরিক্ত ভিড় এবং পুজোর দীর্ঘ লাইনের কারণে আমরা দর্শন করতে পারিনি।
মূল গর্ভগৃহের প্রবেশপথ সরু হওয়ায় ভিড়ের সময় চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি, আমাদের চোখে পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের কিছু ঘাটতি ধরা পড়েছিল।
তবে মন্দিরের অবস্থান অত্যন্ত সুন্দর। তাই এখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখুন এবং সম্ভব হলে ভিড়ের সময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে ছুটির দিন বা উৎসবের সময় পরিস্থিতি কেমন থাকতে পারে, তা আগে জেনে নেওয়া ভালো।
৯. হোটেল ও খাবারের ব্যবস্থা আগে থেকে নিশ্চিত করুন
নেতারহাটে থাকার জায়গার বিকল্প তুলনামূলকভাবে সীমিত। তাই বিশেষ করে পিক সিজনে আগে থেকে বুকিং করে যাওয়া উচিত।
নেতারহাট ডাকবাংলোয় খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও বিকল্প সীমিত। অন্যদিকে, রাঁচিতে হোটেলের নিজস্ব রেস্তোরাঁর দাম বেশি হতে পারে। তাই খাবারের বাজেট তৈরি করার সময় এই বিষয়গুলিও বিবেচনা করুন।
১০. বর্ষাকালে অতিরিক্ত সময় হাতে রাখুন
আমাদের সফরের শেষ দিনে ভারী বৃষ্টির কারণে বেশ কিছুক্ষণ আটকে থাকতে হয়েছিল। পাত্রাতুতেও বৃষ্টি হওয়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী সব জায়গা ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি।
বর্ষাকালে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের সময় বাড়তে পারে। তাই একদিনে অনেকগুলি জায়গা ঘোরার পরিকল্পনা করলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখুন। বিশেষ করে যেদিন ট্রেন ধরতে হবে, সেদিন দূরের গন্তব্য ঘোরার ক্ষেত্রে সময়ের হিসাব আরও সতর্কভাবে করা উচিত।
১১. পাত্রাতুতে থাকতেই পারেন
৮. আমাদের রাঁচি–নেতারহাট সফরের চূড়ান্ত মূল্যায়ন
চার দিনের সফরে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য ঘুরে দেখেছি, তবে সব পরিকল্পিত জায়গায় পৌঁছতে পারিনি। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের মনে হয়েছে, রাঁচি ও নেতারহাট একসঙ্গে ঘুরতে গেলে ভ্রমণের দিনসংখ্যা, যাতায়াতের সময় এবং আবহাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নেতারহাটের পাহাড়ি পরিবেশ, নদী, পাইন বন একদিকে যেমন মন ভালো করে দেয়, অন্যদিকে রাঁচির জলপ্রপাতগুলি ও পাত্রাতু ভ্যালি এই সফরে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
হোটেলের অভিজ্ঞতা একরকম ছিল না—নেতারহাট ডাকবাংলোয় কিছু রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যা চোখে পড়লেও রাঁচির Trevon Hotel Gujrat Centrale আমাদের ভালো লেগেছে। পুরো সফরের জন্য আগে থেকে গাড়ি বুক করা থাকায় বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতও সহজ হয়েছিল।
সবচেয়ে বড় কথা, এই সফর আমাদের শিখিয়েছে যে ভ্রমণের পরিকল্পনা যত নিখুঁতই হোক, প্রকৃতি ও আবহাওয়ার উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই প্রতিটি জায়গা দেখার তাড়নার পাশাপাশি ভ্রমণটাকে উপভোগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার: কিছু অপূর্ণতা, অনেক স্মৃতি
এই ব্লগে আমি আমার সাধ্যমতো রাঁচি–নেতারহাট সফরের সম্পূর্ণ ভ্রমণসূচি, যাতায়াতের বিবরণ, গাড়িভাড়া, হোটেলের অভিজ্ঞতা, দর্শনীয় স্থানগুলির খরচ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি, যাঁরা ভবিষ্যতে এই পথে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য লেখাটি কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।
আমরা অনেক জায়গা ঘুরেছি, কিছু জায়গা বাদ পড়েছে, আবার শেষ দিনে বৃষ্টি আমাদের পরিকল্পনায় বেশ কিছুটা জল ঢেলেছে। তবুও সফরটা কোনওভাবেই ব্যর্থ নয়। বরং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন নতুন জায়গা দেখা, পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগিয়ে চলা, ঝরনার জলধারা উপভোগ করা এবং প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটানোর আনন্দ আমাদের সঙ্গে থেকে যাবে।
বিশেষ করে সীতা জলপ্রপাতের সৌন্দর্য, নেতারহাটের শান্ত পরিবেশ এবং পাত্রাতুর পাহাড়ি উপত্যকার স্মৃতি আমাদের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
সব ভ্রমণ নিখুঁত হয় না। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িতও হয় না। কিন্তু কখনও কখনও কিছু অপূর্ণতা নিয়েই একটি ভ্রমণ জীবনের সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলির মধ্যে জায়গা করে নেয়।
রাঁচি–নেতারহাটের এই চার দিনের সফরও আমাদের কাছে তেমনই এক অভিজ্ঞতা—যা আমরা আজীবন মনে রাখব।
আবার কোনও একদিন, আরও কিছুটা সময় হাতে নিয়ে, এই পথেই ফিরে আসার ইচ্ছা রইল। হয়তো সেদিন দেখা হবে সেইসব জায়গার সঙ্গে, যেগুলি এবারের সফরে আমাদের অপেক্ষায় থেকে গিয়েছিল।
ততদিন পর্যন্ত এই ভ্রমণের স্মৃতিগুলোই থাকুক মনের অ্যালবামে, আর থাকুক পরবর্তী সফরের নতুন স্বপ্ন।
ভালো থাকুন, ঘুরতে থাকুন, আর প্রকৃতির সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করুন।
#RanchiDiaries #NetarhatDiaries #JharkhandTourism #BengaliTravelBlog #TravelGuide #WaterfallLovers #ExploreJharkhand












































Comments
Post a Comment